সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে এ বছর সুপারির ফলন কম হয়েছে। উপজেলায় গত বছরের কার্তিক থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত অনাবৃষ্টি থাকায় সুপারির ফলন কমে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া দ্রব্যমূল্যের বর্তমান দাম অনুযায়ী সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এখানকার বেতাগীর কৃষক, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও বাগানে প্রায় আট হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে এসব বাগানের সুপারি গাছে ফলন ধরেনি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ‘সুপারি একটি উদ্যান জাতীয় ফল। এতে ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যালকালয়েডস, টের্পেনয়েডস, ট্যানিনস, সায়ানোজেনিক, গ্লুকোসাইড, আইসোপ্রেনয়েড, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ইউজেনল জাতীয় বিশেষ উপাদানগুলো লাল সুপারির পাতায় পাওয়া যায়। এসব উপাদান স্ট্রোক, মানসিক এবং কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি কমাতে উপকারী। তবে সুপারি বেশি খেলে এবং নেশায় পরিণত হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’
উপজেলার বাগান মালিকরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। সেই ফুল থেকে সুপারি হয়, যা আশ্বিন- কার্তিক মাসে পুরোপুরি পেকে যায়। আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে বাজারে নতুন সুপারি আসতে শুরু করে। মূলত আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে সুপারির ভরা মৌসুম। এখন উপজেলার প্রত্যেক বাজারে প্রতিবছর বিক্রির জন্য বাজারে প্রচুর সুপারি আসতো। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে কিনে ৬০ শতাংশ পানিভর্তি পাত্রে ভিজিয়ে রাখতেন। ৪০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারাহ ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হওয়ায় আগের তুলনায় কম সুপারি আসছে। দামও আশানুরূপ নয়।
আব্দুর রহমান জানান, বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী সুপারির দাম কম। এ বছর আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে দাম ভালো ছিল। কিন্তু এ মাসের মাঝামাঝিতে এসে দাম কিছুটা কমে গেছে।
উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে সুপারি বিক্রির প্রধান বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেতাগী পৌর শহরের বাজার, ঝোপখালী বাজার, পুটিয়াখালী, রানীপুর, গড়িয়াবুনিয়া, বিবিচিনি, লক্ষ্মীপুরা, দেশান্তরকাঠী, বাসন্ডা, হোসনাবাদ, জলিশা, মোকামিয়া, সোনার বাংলা, কাজিরহাট, বলইবুনিয়া, কাউনিয়া, চান্দখালী, মিরেরহাট, কুমড়াখালী, সড়িষামুড়িসহ উপজেলার ৪০টির বেশি বিভিন্ন হাট-বাজারে চলছে সুপারি কেনা-বেচার জমজমাট ব্যবসা। এসব বাজার থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে পাইকারি ও আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন। এসব বাজারে এক কুড়ি সুপারি ২৫০ টাকা, মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো সুপারি সাড়ে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
বেতাগী পৌরসভার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভূদেব সমাদ্দার বলেন, ‘এ বছর সুপারির ফলন কম এবং বাজার দরও গত বছরের তুলনায় কম।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ বছর অনাবৃষ্টি ছিল। তবে সুপারি বাগানের মালিকরা সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা করায় সুপারির ফলন একেবারে খারাপ নয়। যদিও বাজারে কাঁচা-পাকা সুপারির দাম না থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা শঙ্কায়।